নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রামঃ-

চট্টগ্রাম রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক সহকারী এরাদুল হক ভুট্টোর অনুপস্থিতিতে ও তার ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে সিন্ডিকেট টি এখন ও কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, মোহাম্মদ হোসাইন ওরফে ‘ব্যান্ডিজ হোসাইন’ বর্তমানে চট্টগ্রাম রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, তিনি নকলনবিশের পাশাপাশি সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে এসএটি অ্যাক্ট মোহরার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

সদর রেকর্ড রুমের নকলনবীশ প্রশান্ত কুমার সরকার, জামাল উদ্দীন ও চান্দঁগাও সাব রেজিষ্ট্রার অফিসের পিয়ন নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়ম, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য মতে এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চট্টগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সহকারী হিসেবে কর্মরত থাকা এরাদুল হক ভুট্টো দীর্ঘদিন রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে প্রভাব বিস্তার করেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর আইন প্রয়োগ কারী সংস্থার তদন্ত শুরু হয়েছিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে ও কার্যকর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এই দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, বর্তমানে কাগজে-কলমে আধুনগর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কর্মরত থাকলে ও এরাদুল হক ভুট্টো নিয়মিত অফিসে উপস্থিত হন না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান ও জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে এরাদুল হক ভুট্টো, মোহাম্মদ হোসাইন, প্রশান্ত কুমার সরকার, জামাল উদ্দীন, নাছির উদ্দিন কিংবা সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হবে।