নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-

পটুয়াখালী ডিসি অফিস কার্যালয়ে দুই সাংবাদিক গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করলে তাদেরকে ২ নাম্বার ও ভুয়া সাংবাদিক আখ্যা দেন সংশ্লিষ্ট ডিসি অফিসের কর্মকর্তারা। এটা সাংবাদিক মহলের এক নজিরবিহীন ঘটনা। সাংবাদিক ২ জনকে আটকিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে ডিসি অফিসের কর্মকর্তার কথা বার্তায় বুঝা যায় দূর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্য বড় বাধা এই সাংবাদিক। তাদের অনিয়মের বিষয় প্রকাশ হলে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারে কর্মকর্তারা। তাই তারা সাংবাদিককে আটকিয়ে ও সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কর্মকর্তার হাতে নিয়ে সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করেন।

সাংবাদিকতার মূল কাজই হলো তথ্য সংগ্রহ করা এবং তা জনসম্মুখে তুলে ধরা। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা বিভিন্ন বৈধ পদ্ধতি ও কৌশল ব্যবহার করতে পারেন। কোনো অনিয়ম বা অসঙ্গতির তথ্য প্রমাণের জন্য গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এটা সাংবাদিকের সংবাদ ও ভিডিও সংগ্রহ করার অধিকার। গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করে ভিডিও ধারণ এমন অভিযোগ থাকলেও, সেটির আইনগত ও সাংবাদিকতাগত বৈধতা যাচাইয়ের বিষয় আছে। তবে শুধু সাংবাদিকের কাজের ধরন, প্রতিষ্ঠানের আকার কিংবা ব্যক্তিগত চেহারা-পরিচয়ের ভিত্তিতে তাকে হেনস্তা বা অপমান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়।

পটুয়াখালীতে দুই সাংবাদিককে আটক ও হেনস্তার যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তারা কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন, সেখানে কোনো আইন বা বিধি লঙ্ঘন হয়েছিল কি না এবং তাদের সঙ্গে আচরণ আইনসম্মত ছিল কি না—এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষভাবে উত্তর পাওয়া জরুরি।

পটুয়াখালী ডিসি অফিস বিভিন্ন দূর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্য পরিপূর্ণ। বিছিন্ন চর ও গ্রামের সহজ সরল মানুষ সেবা নিতে আসলে সরাসরি সরকারি সেবা থেকে অসহায় মানুষ গুলো বঞ্চিত। সরকারি প্রায় সেবা দালালদের মাধ্যমে নিতে হয়। সরাসরি সেবা নিতে গেলে ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের কোন মূল্য নেই যেন পটুয়াখালী জেলা সরকারি অফিস গুলোতে।

পটুয়াখালী ডিসি অফিসে হেনেস্তার শিকার ভুক্তভোগী সাংবাদিকেরা জানান, সরকারি একটি সেবা নিতে দীর্ঘদিন যাবত ঘুরলেও সেবা থেকে বঞ্চিত। তাই তারা বার বার হয়রানি শিকার হওয়ার পর তাঁরা ডিসি অফিসের কর্মকর্তাদের দূর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্যোর তথ্য সংগ্রহ করার জন্য গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। এই গোপন ক্যামেরার ভিডিও সম্পর্কে অনুমান করতে পারেন ডিসি অফিসের কর্মকর্তারা। তখনই দেখা দিয়েছে সাংবাদিকদের সাথে বাকবিতন্ডা। এক পর্যায় ডিসি অফিসের কর্মকর্তারা ভূয়া ও ২ নাম্বার আখ্যা দেন সাংবাদিককে।

সাংবাদিকের প্রতিষ্ঠান ছোট হতে পারে, কিন্তু তার প্রশ্ন ছোট নয়। চেহারা সুন্দর কি না, সেটিও সাংবাদিকতার যোগ্যতার মাপকাঠি হতে পারে না। এর জন্য সাংবাদিককে ২ নাম্বার বা ভূয়া বলে আখ্যা দেওয়া এটা বাংলাদেশের কোন আইনের কোন ধারায় লিপিবদ্ধ?

ঘটনার সত্যতা ও দায় নির্ধারণ হোক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে, পরিচয় বা প্রভাবের ভিত্তিতে নয়। এই ঘটনায় সাংবাদিকের বাকরুদ্ধ করার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সাংবাদিকের স্বাধীন মতামত প্রকাশ আরেক বাধা এই ঘটনায়। এই ঘটনাকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন সাংবাদিক মহল।

পটুয়াখালীতে দুই সাংবাদিক আটক ও হেনস্তা’—ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি সাংবাদিক মহলের।