জেলা প্রতিনিধি, খুলনাঃ-

খুলনা সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংককের ত্রিবার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও উত্তেজনামূলক পরিবেশ ও মব সৃষ্টি করে একটি মহল খুলনা সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক দখলের পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, খুলনা ডাকবাংলো বেবি স্ট্যান্ড সংলগ্ন খুলনা সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংক নামে পরিচিত হলেও মূলত এটি একটি প্রাথমিক সমবায় সমিতি। সে হিসেবে সমবায় সমিতি আইন ও বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়।
নির্দিষ্ট সংখ্যক শেয়ার হোল্ডার সমবায়ীদের অংশ গ্রহণে এবং প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতি ৩ বছর পরপর কমিটি গঠিত হয়। কমিটিতে একজন সভাপতি, ১ জন সহ-সভাপতি, চার ব্লক থেকে ৪ জন সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৯ নভেম্বর ‘২৬। কমিটির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে যাওয়ায় আগামী ৩১ অক্টোবর নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা সমবায় কর্মকর্তা ৩ সদস্যের নির্বাচন কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। নির্বাচন কমিটির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মনোনয়ন বিতরণের দিন ছিলো। সেই অনুযায়ী ৬ টি পদের বিপরীতে বিভিন্ন প্রার্থী মনোনয়ন গ্রহণ করতে গেলে একটি গোষ্ঠী প্রার্থীদের বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। নির্বাচনের প্রার্থী প্রশান্ত সরকার, তরফদার বাদশা হামলার শিকার ও লাঞ্ছিত হয়। নাম প্রকাশ্যে কমিটির এক সদস্য জানান, হামলাকারীরা অনেকেরই মনোনয়ন ছিনিয়ে নিয়েছে। তাদের অব্যহত হুমকি -ধামকিতে গোটা প্রতিষ্ঠানটিতে ত্রাসের পরিস্থিতি বিরাজ করে। ভয়ে কর্মকর্তা -কর্মচারীরা দ্রুত অফিস ত্যাগ করে।

একটি সূত্র থেকে জানা যায়, সরিফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের শাসন আমলে একটানা ৯ বছর উক্ত প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে ছিলেন। এমনকি তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের ডিও লিটারের মাধ্যমে সরকার মনোনীত সদস্য মনোনীত হন। বর্তমানে সে হঠাৎ বিএনপি বনে গেছেন।

এব্যাপার লাঞ্ছিত হাওয়া তরফদার বাদশা মিয়া বলেন, হামলাকারীরা একক অধিপত্য বিস্তার করতে চাচ্ছে। অন্য কাউকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেবে না। সরিফ ও তার ভাই পল্টু এসকল ঘটনার সাথে জড়িত। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যাংকের সদস্য মেহেদী হাসান বলেন, একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবকরা প্রশান্ত সরকার ও তার পুত্রের মনোনয়ন পত্র ছিনিয়ে নিয়ে ছিড়ে ফেলে আমার চোখের সামনে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা বলে আমি মনে করি।
এব্যাপারে নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও খুলনা মেট্রোপলিটন সমবায় কর্মকর্তার সাথে বারবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।