
বর্তমান চট্টগ্রামে ডেঙ্গু মহামারি রুপ ধারণ করেছে। জ্বর মানে ডেঙ্গু, হাম এবং টাইফয়েড যা মানুষের মুখে মুখে। তবুও এই ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া শরীরে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দৈনন্দিন প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে বাংলার মানব জাতি।
ডেঙ্গুর মারাত্মক প্রকোপ মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ৮টি ওয়ার্ডকে হাই-রিস্ক ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ৮টি ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে।
রেড জোন চিহ্নিত ওয়ার্ডগুলো হলো: 🔴 ওয়ার্ড ২: জালালাবাদ 🔴 ওয়ার্ড ৩: পাঁচলাইশ 🔴 ওয়ার্ড ১০: উত্তর কাট্টলী 🔴 ওয়ার্ড ১৭: পশ্চিম বাকলিয়া 🔴 ওয়ার্ড ১৯: দক্ষিণ বাকলিয়া 🔴 ওয়ার্ড ৩২: আন্দরকিল্লা 🔴 ওয়ার্ড ৩৪: পাথরঘাটা 🔴 ওয়ার্ড ৩৯: দক্ষিণ হালিশহর
এসব এলাকায় বিশেষ মশক নিধন কার্যক্রম ও সচেতনতা অভিযান চালানো হবে। সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখার অনুরোধ জানিয়েছে চসিক।
ডেঙ্গুঃ ডেঙ্গু বিপদজনক ভাইরাস জনিত রোগ যা এডিস নামক প্রজাতির মশার কামড়ে সৃষ্টি হয়। হঠাৎ মানব শরীরে ১০২-১০৪/৫/৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট হতে পারে।
মাথা ও চোখের পিছনে তীব্র ব্যথা শরীর, মাংসপেশি ও হাড়ের ব্যথা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা পারে শরীরের অতিরিক্ত দূর্বল হয়ে যাওয়া এবং স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলা
ডেঙ্গু রোগের কোন ঔষধ নাই। মূল চিকিৎসা হচ্ছে শরীরের ফ্লুইড ব্যালেন্স ঠিক রাখা। ডেঙ্গুতে জ্বর কমে গেলেই যে বিপদ কেটে যায় এটা মনে করা মোটেই ঠিক না। বরং অনেক সময় জ্বর কমে যাওয়ার পরে ২৪–৪৮ ঘণ্টাই সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু মহামারি রুপ ধারণ করে সাধারণত জ্বর শুরুর ৩–৮ দিনের মধ্যে। এসময় পেটের তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, নাক-মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, রক্তবমি বা পায়খানায় রক্ত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি করা উচিত না। ডাক্তারের পরামর্শ ও সরাসরি হাসপাতালে যাওয়া উচিত। সুতরাং কারো পরামর্শে কোন কিছু না করা ভালো। কোন এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
যে গুলো খুবই প্রয়োজনঃ
পানি, তরল বা ফ্লুইড জাতীয় খাবার বেশি বেশি খাবে, যেমন পেঁপে ও পেঁপে পাতার রস, ডাবের পানি, বাসায় বানানো ফলের রস, লেবু বা কমলালেবুর শরবত ইত্যাদি।
জ্বর এলেই CBC ও Dengue Ns1 পরীক্ষাটা দ্রুত করে ফেলুন। জ্বরের পাঁচদিনের মধ্যেই এই টেস্ট করতে হয়, পাঁচদিন কেটে গেলে এই টেস্ট নেগেটিভ আসে। তখন ডেঙ্গু কনফার্ম করার জন্য অন্য টেস্ট করাতে হয়। অবহেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কঃ
বাসার আঙ্গিনায় কোথাও পানি জমে আছে কিনা খেয়াল রাখুন, প্রতিবেশীদেরকেও সতর্ক করুন। ছাদে কোথাও পানি জমে আছে কিনা খেয়াল করুন।
প্লাটিলেট বৃদ্ধির কৌশলঃ
রক্তে প্লাটিলেট বাড়াবেন যেভাবে (ডেঙ্গুতে মৃত্যুর প্রধান কারন রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়া) রক্তে প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা রক্তজমাটে সাহায্য করে। ২০ হাজারের নিচে প্লাটলেটের সংখ্যা নেমে আসলে কোনো প্রকার আঘাত ছাড়াই রক্তক্ষরণ হতে পারে। কোনো কারণে রক্তে প্লাটিলেট কমে গেলে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই প্লাটিলেটের সংখ্যা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কিছু খাবার আছে যেগুলো প্লাটিলেট বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। আসুন জেনে নেই সেসব খাবারের তালিকা।
পেঁপেঃ পেঁপে খুব দ্রুত রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ বাড়াতে সক্ষম। মালয়েশিয়ার এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ডেঙ্গু জ্বরের কারণে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ পেঁপে পাতার রস দ্রুত বৃদ্ধি করে। রক্ত প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেলে প্রতিদিন পেঁপে পাতার রস কিংবা পাকা পেঁপের জুস পান করুন।
ডাবের পানিঃ ডাবের পানি প্রাকৃতিক ও চর্বিবিহীন একটি পানীয়, যা গরমে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে এবং প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইট ও পুষ্টি সরবরাহ করে। এতে থাকা ফাইবার বা আঁশ পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও অ্যাসিডিটি দূর করতে সাহায্য করে। ডাবের পানিতে উপস্থিত পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এটি খাবার ভালোভাবে হজম করতে সাহায্য করে এবং শরীরে মেদ জমতে দেয় না।ডাবের পানির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণ ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং ব্রণের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
মিষ্টি কুমড়াঃ মিষ্টি কুমড়া এবং কুমড়া বীজ রক্তের প্লাটিলেট তৈরি করতে বেশ কার্যকরী। এছাড়াও মিষ্টি কুমড়াতে আছে ভিটামিন ‘এ’ যা প্লাটিলেট তৈরি করতে সহায়তা করে। তাই রক্তের প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া এবং এর বীজ খেলে উপকার পাওয়া যায়।
লেবু ও কমলালেবুঃ লেবুর রসে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকে। ভিটামিন সি রক্তে প্লাটিলেট বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়াও ভিটামিন ‘সি’ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে তোলে। ফলে প্লাটিলেট ধ্বংস হওয়া থেকেও রক্ষা পায়।
আমলকীঃ আমলকীতেও আছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’। এছাড়াও আমলকীতে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে। ফলে আমলকী খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং প্লাটিলেট ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা পায়।
অ্যালোভেরাঃ অ্যালোভেরা রক্তকে বিশুদ্ধ করে। রক্তের যেকোনো সংক্রমণ দূর করতেও অ্যালোভেরা সাহায্য করে। তাই নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস পান করলে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।।
ডালিমঃ ডালিম রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর আয়রন রয়েছে যা প্লাটিলেট বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন ১৫০ মিলিলিটার ডালিমের জুস দুই সপ্তাহ পান করুন। ডালিমের রসে ভিটামিনও থাকে যা দুর্বলতা দূর করে কাজে শক্তি দেবে।
ডেঙ্গুর কোন ঔষধ নাই তাই নিজে সচেতন হই অন্যকে সচেতন করার চেষ্টা করি। তাহলে এই ভাইরাস জনিত মহামারি থেকে আমরা অনেকেই নতুন জীবন ফিরে পেতে পারে।