• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার পক্ষে অসহায় পরিবারের পাশে ইয়ুথ ড্রিম, খাদ্যসামগ্রী ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ সাংবাদিক আজমির হোসেন তালুকদারের বাসায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার সাংবাদিকদের নিয়ে চিকিৎসকের অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদ বিএমএসএফের সিআইডি পুলিশের স্ত্রীর মামলায় বিএমএসএফের আইনজীবীরা ৩ সাংবাদিকের জামিন দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করলে জবাব দিবে বিএনপি: ইসরাফিল খসরু নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা শোক ও প্রতিবাদ: বিএমএসএফের মা ইলিশ সংরক্ষণে বিভিন্ন সমূদ্র উপকূল সাগরে নৌবাহিনীর অভিযান অব্যাহত খাদ্য সংরক্ষণে সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান খাদ্যমন্ত্রী: আফরোজা খানম এমপি  সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে এসআরবি-৬ এর অভিযান আলিফ বাহিনীর ১৫ জন আত্মসমর্পণ খুলনায় ছিনতাইকারীদের চাপাতির কোপে পুলিশ পরিদর্শক গুরুতর আহত

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার পক্ষে অসহায় পরিবারের পাশে ইয়ুথ ড্রিম, খাদ্যসামগ্রী ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

প্রতিনিধির নাম / ২৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

আতিকুর রহমান আশিক, মানিকগঞ্জঃ-

মানিকগঞ্জের কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া সৌদি আরবপ্রবাসী লিটন খানের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক সংগঠন ইয়ুথ ড্রিম। মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার পক্ষ থেকে পরিবারটির হাতে খাদ্যসামগ্রী ও সন্তানদের জন্য শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারটির আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন সৌদি আরবপ্রবাসী লিটন খান। তাঁর চিকিৎসার পেছনে পরিবারের সব সঞ্চয় ব্যয় হয়ে যায়। একসময়ের স্বচ্ছল পরিবারটি বর্তমানে আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে কঠিন জীবনসংগ্রাম করে চলেছেন তাঁর উচ্চশিক্ষিত স্ত্রী। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

চিকিৎসায় শেষ সঞ্চয়, তিন সন্তানকে নিয়ে মায়ের জীবনসংগ্রাম

লিটন খানের মৃত্যুর পর পরিবারটির ওপর নেমে আসে আর্থিক অনিশ্চয়তা। স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারের জমানো অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ায় দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো এবং সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতেও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী।

একজন মায়ের কাছে সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার স্বপ্ন অত্যন্ত মূল্যবান। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আর্থিক সংকট যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে লক্ষ্যেই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খাদ্যসামগ্রী ও শিক্ষা উপকরণ প্রদান

পরিবারটির এমন সংকটময় সময়ে মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতার পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ায় ইয়ুথ ড্রিম। পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী এবং তিন সন্তানের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবারটির দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণে সহায়তা করার পাশাপাশি শিশুদের পড়াশোনার প্রতি উৎসাহ জোগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিশুর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হোক, তা কেউই প্রত্যাশা করেন না। তাই শিশুদের শিক্ষা উপকরণ প্রদানকে পরিবারটির ভবিষ্যৎ গঠনের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কর্মসংস্থান ও সরকারি সহায়তার আশ্বাস

পরিবারটিকে সাময়িক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। লিটন খানের স্ত্রীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে পরিবারটির নিয়মিত আয়ের পথ সুগম হতে পারে। এর ফলে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহন, পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপস্থিত ছিলেন

সহায়তা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন মো আবদুল খালেক শুভ, প্রধান উপদেষ্টা ইয়ুথ ড্রিম ও সভাপতি জেলা ছাত্রদল। মো. স্বপন মিয়া, সভাপতি, ইয়ুথ ড্রিমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মানবতার বন্ধনে মানুষের পাশে ইয়ুথ ড্রিম

মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানোই মানবতার প্রকৃত সৌন্দর্য। সমাজের অসহায় ও সংকটাপন্ন পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তাদের জীবনে আশার আলো জ্বালানো সম্ভব। বিশেষ করে উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারানো পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ, কর্মসংস্থান এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইয়ুথ ড্রিমের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো অসহায় পরিবারটির কষ্ট কিছুটা লাঘব করা, শিশুদের শিক্ষার পথ সুগম করা এবং তাদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে সহযোগিতা করা।

সংগঠনটির প্রত্যাশা, পারিবারিক সংকট কাটিয়ে উঠে লিটন খানের স্ত্রী তাঁর সন্তানদের নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন। শিশুদের লেখাপড়া অব্যাহত থাকবে এবং তারা একদিন নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করে পরিবার ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে।

মানবিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা আরও বিস্তৃত হোক—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

ইয়ুথ ড্রিম—মানবতার বন্ধনে, মানুষের কল্যাণে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd