• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
চর বিশ্বাস ইউনিয়নের আগামীর ভাবনা: চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন গাজীকে ঘিরে প্রত্যাশা আলিমে সাফল্যের শীর্ষে দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯২ শিক্ষার্থী খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার পক্ষে অসহায় পরিবারের পাশে ইয়ুথ ড্রিম, খাদ্যসামগ্রী ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ সাংবাদিক আজমির হোসেন তালুকদারের বাসায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার সাংবাদিকদের নিয়ে চিকিৎসকের অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদ বিএমএসএফের সিআইডি পুলিশের স্ত্রীর মামলায় বিএমএসএফের আইনজীবীরা ৩ সাংবাদিকের জামিন দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করলে জবাব দিবে বিএনপি: ইসরাফিল খসরু নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা শোক ও প্রতিবাদ: বিএমএসএফের মা ইলিশ সংরক্ষণে বিভিন্ন সমূদ্র উপকূল সাগরে নৌবাহিনীর অভিযান অব্যাহত খাদ্য সংরক্ষণে সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান খাদ্যমন্ত্রী: আফরোজা খানম এমপি 

রাঙ্গুনিয়ায় সরকারি প্রকল্পে বাধা, কেটে দেওয়া হলো ক্লিনিকের একমাত্র সড়ক

প্রতিনিধির নাম / ১৯০ Time View
Update : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

৩১১

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রামঃ-

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইকোপার্ক এলাকায় সরকারি অর্থায়নে নির্মাণাধীন কমিউনিটি ক্লিনিকের সংযোগ সড়কটি পরিকল্পিতভাবে কেটে ফেলা হয়েছে, যা সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কাবিখা কর্মসূচির আওতায় এই সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সহজে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু প্রকল্পটির কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল বিভিন্ন কৌশলে বাধা সৃষ্টি করে আসছে। সর্বশেষ গত রবিবার দুপুরে সড়কটির একটি বড় অংশ কেটে ফেলে ক্লিনিকের সাথে মূল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি উন্নয়ন কাজে এমন নগ্ন হস্তক্ষেপ ও সরকারি সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ঘটনার সময় স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে সহায়তা চাইলেও তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে।

সড়কটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে ইকোপার্ক ও আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ এখন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ইউনুচ ও জানে আলম গং দীর্ঘদিন ধরে এই উন্নয়ন প্রকল্পটিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এই ক্লিনিকটি ওই অঞ্চলের গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র আশ্রয়স্থল হওয়ার কথা। সংযোগ সড়ক না থাকায় জরুরি মুহূর্তে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া বা চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। ভুক্তভোগীদের মতে, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সরকারি রাস্তার ক্ষতি করা মানেই জনস্বার্থকে পদদলিত করা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এর আগেও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছিলেন এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার দায়ে কয়েকজনকে আটক করেছিলেন, কিন্তু মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার পর তারা পুনরায় একই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে, যা আইনের শাসনের প্রতি তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল।

গত ২৪ মে এলাকাবাসী মানববন্ধন করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে। এদিকে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার পেছনে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির কাজ নির্বিঘ্নে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। সরকারি কাজে বাধা প্রদানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র মুচলেকা গ্রহণ করে ছেড়ে দেওয়া যে কোনো স্থায়ী সমাধান বয়ে আনেনি, বরং তা অপরাধীদের পুনরায় একই কাজ করার সাহস যুগিয়েছে। এলাকাবাসী এখন সড়কটি দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানকারী ও সড়ক ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। যদিও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি না থাকায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলছে।

পরিশেষে, রাঙ্গুনিয়ার এই ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ সড়ক কাটার ঘটনা নয়, বরং এটি সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় সতর্কবার্তা। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংযোগ সড়কটি পুনর্নির্মাণ করা না হয় এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে ভবিষ্যতে সরকারি যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি মানুষের আস্থা হ্রাস পাবে। এছাড়া, যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে জনস্বাস্থ্য সেবার এই প্রকল্পটি অকার্যকর হয়ে পড়ার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তির আওতায় এনে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd