মোঃ নিজাম উদ্দিন (মিজান), চট্টগ্রামঃ– চট্টগ্রাম মহানগর ইপিজেড ও পতেঙ্গায় ভয়াবহ রুপ নিয়েছে ডেঙ্গু ও হামের পরিস্থিতি। সরকারি, বেসরকারি ও ক্লিনিকগুলোতে চাপ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। কোথাও কাঙ্খিত শয্যা মিলছেনা হাসপাতাল গুলোতে আবার কোথাও অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক সপ্তাহে বাড়ছে ডেঙ্গু ও হাম রোগীর সংখ্যা। শুধু সরকারি হাসপাতাল নয়, বেসরকারি হাসপাতালে ও ক্লিনিক গুলোতে বাড়ছে ডেঙ্গু ও হামের রোগী। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু ও হামের জন্য পৃথক ইউনিট চালু করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে দেড়ি হচ্ছে। ফলে রোগীর পাশাপাশি স্বজনেরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠ প্রকাশ করেন।
ইপিজেড ও পতেঙ্গায় জনবহুল গার্মেন্টস এলাকা হওয়ার কারণে ডেঙ্গু ও হামের ভয়াবহতা আরও বেশি। এই এলাকায় নেই কোন সরকারি হাসপাতাল, আছে শুধু হাতে গোনা কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এই হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে পাওয়া যায় না সচারাচর ডাক্তার। জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত গার্মেন্টস কর্মীরা।
অন্যদিকে গার্মেন্টস কর্মীদের মধ্যে হতাশ ও উৎকন্ঠ বৃদ্ধি পাচ্ছে দিনের পর দিন। গার্মেন্টস কর্মীদের সন্তানেরা বেশিই আক্রান্ত হচ্ছে ডেঙ্গু, হামে ও টাইফয়েডে। আক্রান্ত সন্তান দেখাশোনা করার জন্য কর্মীরা গার্মেন্টসে অনুপস্থিত থাকলে হাড়াতে হচ্ছে চাকরি। গার্মেন্টস কর্মীদের মধ্যে একদিকে সন্তান অসুস্থ অন্যদিকে চাকরি হারানো হতাশা। ইপিজেড ও পতেঙ্গা এলাকায় বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ করলে তাঁরা জানান, দিন দিন চেম্বার গুলোতে জ্বরের রোগী বেশি। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দেখা যায় প্রায় শিশু-বাচ্চা ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত এবং কিছু শিশু/বয়স্ক/বৃদ্ধ টাইফয়েডে আক্রান্ত হচ্ছে।
চিকিৎসকেরা জানান, ইপিজেড পতেঙ্গা এলাকা জনবহুল হওয়ার কারণে এখানে বিশুদ্ধ পানির অভাব, ডোবা নালার পরিমাণ বেশি, জলাবদ্ধতা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস, গার্মেন্টস কর্মীদের মধ্যে অচেতনতা সহ এই এলাকার পরিবেশ সবকিছু নিয়ে এই ভয়াবহতা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করার জন্য মশা নিধনে চলছে বিভিন্ন প্রক্রিয়া। তারপরও ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোন সুফল হচ্ছে না। আতঙ্কে নগরের ইপিজেড ও পতেঙ্গা এলাকার সাধারণ জনগণ ও গার্মেন্টস কর্মীরা।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইপিজেড ও পতেঙ্গা এলাকায় মহানগরের সব চাইতে জনবহুল এলাকা। দীর্ঘ বছর গুলোতে আমাদের দাবি ছিলো একটি সরকারি হাসপাতাল স্থাপন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বিভিন্ন সরকারের আমলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ্বাস দিলেও হাসপাতাল স্থাপন কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়নি। এই এলাকায় কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চিকিৎসা নিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয়রা ও গার্মেন্টস শ্রমিকরা।
তারা আরও জানান, ইপিজেড ও পতেঙ্গা এলাকার ডোবা ও নালা নর্দমা গুলো সিটি কর্পোরেশন প্রতিনিয়ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার নেই কোন উদ্যোগ। শুধু ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিলে পরিদর্শন করে শুধু নিরসনের আশ্বাস। এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে আরও ভয়াবহতার দিকে এগিয়ে যাবে ডেঙ্গু, হাম, টাইফয়েড ও ডায়রিয়া সহ নানান রোগ।