বিশেষ প্রতিনিধি, পটুয়াখালীঃ-
পটুয়াখালী পৌর শহরের দক্ষিণ সবুজবাগ এলাকার ১০ নম্বর লেনের সাকিব ভিলার চতুর্থ তলার ভাড়া বাসা থেকে মোঃ বাদশা ফয়সাল (২৩) নামে যুবকের ম*র*দেহ উদ্ধার করেছে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ।
নি*হত ফয়সাল বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বেতমোর এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে পটুয়াখালী শহরের সফট বাইট পেস্ট্রি কেক শপের একটি শাখায় ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চাকরিকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৮ লাখ টাকা তসরুফের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি মালিকপক্ষকে ৫৫ হাজার নগদ টাকা ও একটি আইফোন দেন এবং আরও ১ লাখ টাকা দেওয়ার কথা জানান। পরবর্তীতে মালিকপক্ষ থেকে পুরো অর্থ পরিশোধের জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং আইনগত ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়।
ঘটনার পর থেকেই নি*হত ফয়সালের রুমমেট ও সহকর্মী নাইমুল ইসলাম চয়ন পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধেও প্রায় ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। ঘটনার পর চয়নের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। চয়ন রাঙ্গাবালী এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ একাধিক তদন্ত সংস্থা কাজ করছে। আর্থিক কেলেঙ্কারি, রহস্যজনক মৃত্যু এবং সহকর্মীর পলায়ন, সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন পটুয়াখালীর অন্যতম আলোচিত রহস্যে পরিণত হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষে মৃ*ত্যু*র প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
সমর্থিত একাধিক সূত্রের দাবি, নি*হত ফয়সাল ছিলেন সৎ, শান্ত স্বভাবের ও নিরহংকারী। তাদের মতে, তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনেকটাই অসামঞ্জস্যপূর্ণ। হঠাৎ করে মালিকপক্ষের এমন গুরুতর অভিযোগ, আর্থিক চাপ ও আচরণ ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
সফট বাইট এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এস,এম সাদিক স্থানীয় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। অস্বাভাবিক ভাবে অনেকেই তাকে সন্দেহর চোখে দেখছেন। স্থানীয়রা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং দ্রুত এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা।