মোঃ নিজাম উদ্দিন (মিজান):-
বাবা মানেই এক বিশাল বটবৃক্ষ, যার ছায়া সন্তানেরা নিশ্চিন্তে জীবন কাটিয়ে দেয়। ভালোবাসার পৃথিবীতে যদি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কোনো সংজ্ঞা থাকে, তবে তার নাম “বাবা”। হাজারো কষ্টের মাঝেও যিনি মুখে হাসি ধরে রাখেন, তিনি আর কেউ নন, তিনি বাবা। সন্তানের সব সাফল্যের পেছনের নীরব কারিগর ও অনুপ্রেরণা শুধু মা-বাবাই।
বাবা হলেন একটি বাড়ির ছাদ, যে নিজে পুড়ে সন্তানদের ছায়া দেয়, কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলে না। বাবার মস্তিষ্কে যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি খেলা করে সেটি হলো সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করে যাওয়া আর সন্তানদের মস্তিষ্কে সবচেয়ে বেশি খেলা করে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সুন্দর একজন জীবনসঙ্গী পাওয়া। বাবা- মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্ক পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক অদৃশ্য বন্ধন। একদিকে বাবার পরিশ্রম আর স্নেহে গড়ে ওঠে সন্তানের স্বপ্ন, অন্যদিকে ছেলের ছোট ছোট সাফল্যে আনন্দে ভরে ওঠে একজনই, তিনি হচ্ছেন “বাবা”।
“বাবা” শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ভালোবাসা, নিরাপত্তা, সাহস আর নির্ভরতার অনুভূতি। সেই বাবাদের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশের দিন আজ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব “বাবা” দিবস।জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে দিবসটি উদ্যাপন করা হয়। সেই হিসেবে এবার দিবসটি পালিত হচ্ছে আজ। যদিও বাবা দিবসের ধারণার জন্ম পশ্চিমা বিশ্বে, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ইতিহাস বলছে, বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাবা দিবস উদ্যাপনের সূচনা হয়। মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও সন্তানের জীবনে সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং দায়িত্বশীল—এই বার্তা ছড়িয়ে দিতেই দিবসটি চালু করা হয়েছিল।
জানা যায়, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্ট এলাকার একটি গির্জায় প্রথমবারের মতো বাবা দিবস পালিত হয়। পরে ১৯০৯ সালেও দিবসটি উদ্যাপিত হয়। এরপর সোনোরা স্মার্ট ডড নামের এক নারীর উদ্যোগে ১৯১০ সালের ১৯ জুন বিশেষভাবে বাবা দিবস উদ্যাপন করা হয়। ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে বাবার অবদানের গুরুত্ব আরও বেশি করে স্বীকৃতি পেতে শুরু করে।
এর ধারাবাহিকতায় ১৯১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংসদে বাবা দিবসকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণার প্রস্তাব তোলা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ এ উদ্যোগকে সমর্থন দেন। পরে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন বাবা দিবসকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেন।
শুরুর দিকে বাবা দিবস তেমন জনপ্রিয় না হলেও বর্তমানে দিনটি বিশ্বজুড়ে বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয়। এ দিনে অনেকেই বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, উপহার দেন কিংবা সময় কাটান পরিবারের সঙ্গে।
বাবা দিবসে বিশ্বের সকল বাবাকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।