নিজস্ব প্রতিবেদক, গলাচিপাঃ-
গলাচিপা সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরখালী গ্রামের বাসিন্দা রেকসোনা। স্বামীকে হারানোর পর চার মেয়েকে নিয়ে প্রতিদিনই তাকে লড়তে হচ্ছে বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রামে। নিজের কোনো জমি বা ঘর নেই। অন্যের জায়গায় ছোট্ট একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে কোনোমতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
ঘরের চারপাশে পাতার জীর্ণ বেড়া। মাথার ওপর টিনের ছাউনি নেই—পলিথিন দিয়েই কোনোরকমে ঢেকে রাখা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সেই পলিথিন ভেদ করে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। রাতভর ভেজা মেঝেতে চার মেয়েকে নিয়ে নির্ঘুম কাটাতে হয় রেকসোনাকে।
চরম দারিদ্র্যের কারণে চার মেয়ের কাউকেই নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারছেন না তিনি। দুবেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে লেখাপড়ার খরচ বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফলে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে চারটি শিশুর ভবিষ্যৎ।
রেকসোনার সংসার চলে মানুষের দান-অনুদান, পুরোনো কাপড়, ছেঁড়া কম্বল এবং প্রতিবেশীদের দেওয়া খাবারের ওপর নির্ভর করে। কোনো দিন খাবার জোটে, কোনো দিন জোটে না। তবুও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রেকসোনার মতো অসহায় মানুষের জন্য সরকারি কিংবা বেসরকারি সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন। একটি নিরাপদ ঘর, খাদ্য সহায়তা এবং শিশুদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা গেলে পরিবারটি নতুন করে বাঁচার আশা ফিরে পাবে।
মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান—রেকসোনা ও তার চার মেয়ের পাশে দাঁড়ান। সামান্য সহায়তাই পারে একটি অসহায় পরিবারের জীবন বদলে দিতে এবং চারটি শিশুর মুখে ফিরিয়ে আনতে ভবিষ্যতের স্বপ্ন।