মোঃ নিজাম উদ্দিন (মিজান):-
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ এটা কি শুধু কাগজে আর সংবিধানের পাতায় লিপিবদ্ধ। যে দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সৎ কর্মকর্তারা বার বার অবহেলিত। সে দেশের সর্বস্তরের জণগণ রাষ্ট্রের সকল কার্যক্রমের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। বাংলাদেশের মত স্বাধীন রাষ্ট্রের কাছে এটাই কি সর্বস্তরের জনসাধারণের দাবি। আমরা সকল ক্ষেত্রে বলি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা জনগণের। কিন্তু বাস্তবতায় কতটুকু এই ক্ষমতা জনগণ প্রয়োগ করতে পারে। জনগনের সকল ক্ষমতার উৎস হলো রাষ্ট্রের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম জনগনের পক্ষে কাজ করা।
বাংলাদেশে যখনই কোনো সৎ, দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তা দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন, তখন সাধারণ মানুষ আশার আলো দেখতে পায়। জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, রাষ্ট্র এখনও ন্যায়বিচার, সততা ও আইনের শাসনের পথে এগিয়ে যেতে সক্ষম। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, অনেক ক্ষেত্রে এসব কর্মকর্তার প্রাপ্য সম্মান ও সহযোগিতার পরিবর্তে তাদের ভাগ্যে জোটে বদলি, প্রশাসনিক চাপ কিংবা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা।
প্রশ্ন জাগে, একজন কর্মকর্তা যদি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করেন, তাহলে তার পুরস্কার কি শুধুই এক স্থান থেকে আরেক স্থানে বদলি হওয়া? একজন কর্মকর্তা যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তখন তিনি শুধু একটি দপ্তরের নয়, পুরো রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন। অথচ অনেক সময় দেখা যায়, দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি বিভিন্ন মহলের অসন্তোষের শিকার হন।
একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করা হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুধু একজন কর্মকর্তার একক দায়িত্ব নয় বরং এটি রাষ্ট্র, সমাজ এবং নাগরিকদের সম্মিলিত দায়িত্ব। যদি সৎ কর্মকর্তারা বারবার নিরুৎসাহিত হন, তবে ভবিষ্যতে কেউ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে উৎসাহিত হবেন না। এর ফলে দুর্নীতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে পারে, যা দেশের উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য বড় হুমকি।
বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি রাষ্ট্র দেখতে চায়, যেখানে সৎ কর্মকর্তারা নিরাপদে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন। যেখানে তাদের সাহসিকতা ও সততাকে সম্মান জানানো হবে, শাস্তি নয়। যেখানে বদলি হবে প্রশাসনিক প্রয়োজনের অংশ, কোনো সৎ কর্মকর্তাকে দুর্বল করার কৌশল নয়।
আজ সময় এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার। বাংলাদেশে কি সৎ ও ন্যায়পরায়ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য সত্যিকার অর্থে একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ গড়ে উঠবে? নাকি তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মূল্য হিসেবে বারবার বদলি ও বিভিন্ন হয়রানির শিকার হবেন? এর কারণ হতে পারে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বড় ধরনের সিন্ডিকেট লুকিয়ে আছে।
জাতির স্বার্থে, সুশাসনের স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে রাষ্ট্রের সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রত্যাশা, সততা ও ন্যায়ের পক্ষে যারা নির্ভীকভাবে কাজ করেন, রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়াবে। কারণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামে সৎ কর্মকর্তারাই একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিগত সরকারের আমলে এই প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় গুলো আমলাতান্ত্রিক হওয়ার কারণে বাংলাদেশ হুমকির মুখে পরে। সেই আইনের শাসন ফিরে আনতে পরিকল্পনা করেন রাষ্ট্রের সর্বস্তরের জণগণ। “২৪” শের গণঅভ্যুত্থানে বিলুপ্তি হয় রাষ্ট্রের মনগড়া আইনের শাসন। বাংলাদেশের জনগণ আবার নতুন প্রজন্ম স্বপ্ন দেখে নতুন বাংলাদেশ ও নতুন আইনের শাসন। কিন্তু রাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনের শাসন, প্রশাসনের কার্যক্রম ও সৎ প্রশাসনিক কর্মকর্তার সঠিক কাজের জন্য মানুষিক নির্যাতন যেন আবার জনগণের মধ্যে হতাশ সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সৎ কর্মকর্তাদেরকে বদলি ও মানষিক চাপ চলতে থাকলে আবারও রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়বে। এই সুযোগে আমলাতান্ত্রিক ও সিন্ডিকেট চক্র পুনরায় সুবিধা ভোগ করবে। এরকম চলতে থাকলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের জনগণ সঠিক আইনের শাসন থেকে মুখ ফিরে নিবে। ফলে আলোচনা ও সমালোচনার মুখোমুখি হবে বর্তমান সরকার। তখন রাষ্ট্রের জনগণ সঠিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য বিকল্প পথ খুজতে শুরু করবে।
মোঃ নিজাম উদ্দিন (মিজান)
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
প্রকাশক ও সম্পাদক: জি নিউজ টোয়েন্টিফোর