• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত আজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে সোনাডাঙ্গায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ, নগর প্রশাসকের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার পটুয়াখালী ডিসি অফিসে সাংবাদিক হেনস্তা, না কি কর্মকর্তাদের দূর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্য তথ্য ফাঁসে বাধা? খুলনায় মফস্বল প্রেসক্লাবের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত, সাংবাদিকের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গভীর রাতে যুবকের মৃত্যু, শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে রহস্য খুলনায় এসআরবি-৬ এর অভিযানে বিদেশি পিস্তল-গুলি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডালিম দুই সহযোগি সহ গ্রেফতার খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি মারুফা বেগমের ভাগ্নের মৃত্যুতে খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাবের শোক খুলনায় হাসপাতালে ভর্তি ৪৪৯ জন ও ভর্তি বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃত ৩৪, সন্দেহজনক হাম সনাক্ত ৪২ মানসিক নির্যাতন, বহুবিবাহ ও ব্যাংক জালিয়াতির মামলার অভিযোগ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ডেঙ্গু/হাম/টাইফয়েডে দিশেহারা চট্টগ্রাম ইপিজেড-পতেঙ্গার স্থানীয়রা ও গার্মেন্টস শ্রমিকেরা

বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত

প্রতিনিধির নাম / ২৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রামঃ-
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি গঠনের পর প্রথম সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের নাগরিক সংকট চিহ্নিত করে তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়, গোলটেবিল বৈঠক এবং নিয়মতান্ত্রিক সাংগঠনিক কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২২ শে সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্টিনে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির এ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি হামিদ হোসাইন। সভায় মহানগর কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন মহানগর সাধারণ সম্পাদক দুলাল কান্তি বড়ুয়া।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম।
নাগরিক সংকট চিহ্নিত করে কর্মসূচি
সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনীতি, বন্দর, পর্যটন, শিল্প ও বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলেও নগরবাসী দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, যানজট, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা নাগরিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
এসব সমস্যা শুধু আলোচনা সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও সরকারের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, নাগরিক ফোরাম কোনো রাজনৈতিক দলের বিকল্প নয়। নাগরিকদের ন্যায্য অধিকার, নগরীর উন্নয়ন এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের স্বার্থে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে জনমত গড়ে তোলাই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।
কালুরঘাট সেতু নির্মাণে কর্মসূচি:
সভায় চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ দাবি কালুরঘাট সেতু দ্রুত নির্মাণের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, কালুরঘাট সেতু শুধু একটি যোগাযোগ অবকাঠামো নয়, এটি দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই সেতু নির্মাণের দাবিতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি প্রয়োজনে ঢাকায় গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দাবি:
সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন দ্রুত ঘোষণার দাবিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনগণের স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব ও নাগরিক সমস্যা তুলে ধরার ক্ষেত্রে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প দ্রুত শেষ করার দাবি
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করার ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা, খাল ও নালা পরিষ্কার রাখা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
যানজট ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ:
সভায় চট্টগ্রাম মহানগরের যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়েও কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।
বক্তারা বলেন, ফুটপাত পথচারীদের জন্য হলেও বিভিন্ন স্থানে দখলের কারণে নগরবাসী বাধ্য হয়ে সড়কে চলাচল করছেন। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে গোলটেবিল
চট্টগ্রাম মহানগর ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় এসব সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, জনপ্রতিনিধি, প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞ, নাগরিক প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে ঢাকায় একটি গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব গৃহীত হয়।
গোলটেবিল বৈঠকে বৃহত্তর চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সমস্যাগুলো তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ উপস্থাপন করা হবে।
থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন বিস্তারের সিদ্ধান্ত:
সভায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চট্টগ্রাম মহানগরের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন, সদস্য সংগ্রহ, নাগরিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত সাংগঠনিক সভা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, নাগরিক ফোরামের শক্তি হবে তৃণমূলের সাধারণ মানুষ। তাই প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে সংগঠনকে সক্রিয় করে নাগরিকদের মতামত ও সমস্যা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তুলে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
বৃহত্তর চট্টগ্রামকে সাংগঠনিক আওতায় আনার উদ্যোগ
সভায় বলা হয়, ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গঠিত চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামকে সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী বৃহত্তর পরিসরে রূপ দেওয়া হয়েছে।
এর মাধ্যমে শুধু চট্টগ্রাম মহানগর নয়, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার নাগরিকদেরও বৃহত্তর চট্টগ্রামের নাগরিক স্বার্থের অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বক্তারা বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন, যোগাযোগ, পর্যটন, পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, বন্দর ও নাগরিক অধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে সামনে আনতে একটি বিস্তৃত নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন ছিল।
সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস সভায় সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিও আলোচনা করা হয়।
বক্তারা জানান, বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি আবু সৈয়দকে চেয়ারম্যান এবং সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমানকে কার্যকরী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় বলা হয়, বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের নাগরিক স্বার্থকে সমন্বিতভাবে সামনে রেখে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করাই বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোর অন্যতম লক্ষ্য।
নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিক আন্দোলন
সভায় সংগঠনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা করে বলা হয়, বৃহত্তর চট্টগ্রামের নাগরিক সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্মারকলিপি প্রদান, গোলটেবিল বৈঠক, সংবাদ সম্মেলন, নাগরিক মতবিনিময় এবং অন্যান্য শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, নাগরিক ফোরাম কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; বরং নাগরিক সমস্যা সমাধান ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নকে সামনে রেখে কাজ করতে চায়।
উপস্থিতিতের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সভায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র সহসভাপতি লায়ন জিল্লুর রহমান শাকিল, ওয়াহিদুল আলম মাস্টার, মহসিন মিয়া, মহানগর সাধারণ সম্পাদক দুলাল কান্তি বড়ুয়া, বিপ্লব বড়ুয়া, মোহাম্মদ শামসুল আলম রানা, লায়ন মিনহাজুর রহমান, সাজু তালুকদার, লায়ন ফরহাদ মোস্তফা, মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ আলম, মোহাম্মদ ওসমান ও আব্দুল মান্নানসহ মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে বৃহত্তর চট্টগ্রামের নাগরিক স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার এবং সংগঠনের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতৃবৃন্দকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd