• শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত চেতনানাশক প্রয়োগে লুট আতঙ্কে কয়রা উপকূল বাসী রামিসা হত্যার বিচারের দাবিতে গলাচিপায় মানববন্ধন সিমেন্ট ক্রসিং -মোহাম্মদ আলী শাহ রোড এলাকায় মাদক বিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন: ৭ দিনের আল্টিমেটাম চট্টগ্রামে আসকের উদ্যোগে শিশু রামিসার হত্যাকারীকে দ্রুত ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অন্যায় দাবির কাছে নতিস্বীকার না করায় হেনস্তার শিকার প্রফেসর মো: আমিনুল ইসলাম পল্লী বিদ্যুৎ দক্ষিণ দীপ অঞ্চলের হতদরিদ্র পরিবার ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য অভিশাপ প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক: মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা চট্রগ্রাম মহনগর ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কার্যনির্বাহি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কুয়েটে পুলিশ ফাঁড়ির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও পুলিশি কার্যক্রম উদ্বোধন

গলাচিপায় এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে দেয়নি শিক্ষার্থী মাহিনকে, অভিযোগ স্কুল ও দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‎

প্রতিনিধির নাম / ১২৭ Time View
Update : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি, পটুয়াখালীঃ-

‎পটুয়াখালী গলাচিপায় অর্থাভাবে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মাহিন। পরিবারের অভিযোগ, নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করায় ফরম পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

‎মাহিনের মা জানান, ফরম ফিলাপের জন্য তিনি স্কুলের শিক্ষক বুলবুল মিয়ার কাছে ৩ হাজার টাকা নিয়ে গেলে তার কাছে ৫৫০০ টাকা দাবি করা হয়। এই অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় তার ছেলের ফরম ফিলাপ করা হয়নি। আর্থিক অসচ্ছলতার কথা জানালেও স্কুল কর্তৃপক্ষ, এমনকি প্রধান শিক্ষকও বিষয়টি গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‎সরকারি তথ্যমতে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ ফি বিভাগ ভেদে প্রায় ২৩১৫ থেকে ২৪৩৫ টাকার মধ্যে নির্ধারিত রয়েছে । তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎শনিবার দুপুর ১২ টায় গলাচিপা গার্লস স্কুল রোডে জনৈক দোলোয়ার মিয়ার বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

‎এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য একাধিক (প্রায় ৫টি ধাপে) পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাত্র একটি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরে হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

‎অন্যদিকে, একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান অভ্যন্তরীণ টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও বোর্ডে ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে বলে অভিযোগ করেন তার মা নার্গিস বেগম। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের স্বাক্ষরের ফরেনসিক তদন্ত দাবি করেন।

‎এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে মাহিন। তার মা লিপি বলেন, আমার ছেলে এখন গভীর রাতে বাসায় ফেরে, সারাদিন প্রলাপ বকে। আমি মানুষের বাসায় কাজ করে সংসার চালাই। এই ছেলেটাই আমার একমাত্র সম্বল। যদি ওর কিছু হয়ে যায়, দায়ভার কে নেবে?

‎তিনি আরও বলেন, গরিব হয়ে জন্ম নেওয়াটাই কি আমাদের অপরাধ? ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

‎লিপি বেগম আরও অভিযোগ করেন, বহুবার অনুরোধ করার পরও তার ছেলের ফরম ফিলাপ করা হয়নি। এতে তার ছেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে।

উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. মাহাফুজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা বিষয়টি বোর্ডকে জানিয়েছি। তারা অনৈতিকভাবে লেনদেন করে ফরম পূরণ করেছে। আমাদের সার্ভার থেকে এটি করা হয়নি।

তাহলে এখানেই প্রশ্ন, স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপালের অনুমতি ছাড়া কি করে বোর্ড কর্তৃপক্ষ ফরম ফিলাপ অনুমোদন ও সম্পন্ন করেন? তাহলে বোর্ড কর্তৃপক্ষ টাকা নিয়ে খেলছে এবং করছে রমরমা বানিজ্য?

অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও ফরম ফিলাপের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রউফ বুলবুল বলেন, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তারা আমার কাছে ফরম ফিলাপের জন্য আসেনি।

অনুসন্ধানে জি নিউজ টোয়েন্টিফোর,

‎কে এই মাহফুজুর রহমান ও বুলবুল?

মাহফুজুর রহমান ছিলেন বিগত আওয়ামী সরকারের দলের সমর্থক ও উলানিয়া হাট স্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক। গোলাম মাওলা রনির আমলে সে প্রভাব খাটিয়ে প্রধান প্রিন্সিপালের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মোঃ এনামুল নামের এক শিক্ষক ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন। আওয়ামী সরকার দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মোঃ এনামুলকে সরিয়ে প্রধান শিক্ষক ও প্রিন্সিপালের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোঃ মাহফুজুর রহমান। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য শাহজাদা এর সাথে এগিয়ে চলছে তাদের অনৈতিক কর্মকান্ড। তখন থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতি করে আসছেন তারা।

মোঃ আবদুর রউফ বুলবুলঃ উলানিয়া হাট স্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোঃ বুলবুল। বুলবুলের ভাই পুলিশ সদস্য হওয়ায় তার পরিচয়ে অনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। বিগত সরকারের আমলে পুলিশ ছিল শক্তিশালী হাতিয়ার। ভাই পুলিশ সদস্য হওয়ায় এই সুযোগে থেমে ছিলেন না মোঃ আবদুর রউফ বুলবুল। আরও জানা যায়, উলানিয়া হাট স্কুল এন্ড কলেজের সকল ভর্তি ও পরীক্ষার কার্যক্রম গুলো পরিচালনা করেন মোঃ বুলবুল। সেখান থেকে মনগড়া ভর্তি ও পরীক্ষা ফি আদায় করেন তিনি। এ নিয়ে কোন অভিভাবক কথা বললে ক্ষেপে উঠেন এবং  বিভিন্ন হুমকি মূলক আচরণ করেন বুলবুল।

জি নিউজ টোয়েন্টিফোরকে স্থানীয়রা আরও জানান, এসএসসি পরীক্ষায় পাস করা ছাত্র ছাত্রী ভালো কলেজে ভর্তি হতে চাইলে তারা ছাত্র ছাত্রীর মার্কসিট ও প্রসংশাপত্র আটকিয়ে রাখেন। উলানিয়া হাট স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন ছাত্র ও ছাত্রীকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd