• রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
কেয়া বৃত্তি ও গুণীজন সংবর্ধনা: দুই যুগ ধরে মেধা বিকাশ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির সঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তাবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন ইউকে নবগঠিত (আংশিক) কমিটি ঘোষণা উত্তর বেদকাশী কলিজিয়েট স্কুলের কম্পিউটার ও ল্যাব সহকারী আইয়ুবের বিরুদ্ধে চল্লিশ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ গলাচিপায় চার মেয়েকে নিয়ে মানবতার জীবন যুদ্ধ রেকসোনার শিক্ষা মন্ত্রী ও ভুমি প্রতিমন্ত্রীর স্টেডিয়াম পরিদর্শন: ১ মাস পিছিয়ে প্রাইম মিনিস্টার ফুটবল সাংবাদিকদের নিবন্ধন নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় সভাপতি: আহমেদ আবু জাফর  চট্টগ্রামে বিডিএ-বিএসসি ও ডিপ্লোমা দন্ত চিকিৎসকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইপিজেড এলাকায় চসিকের ফুটপাত দখলমুক্ত জোরালো উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত আনোয়ারা চায়না ইকোনমিক জোনে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ: অর্থমন্ত্রী

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ১৫ বছর, ফাইল পাচার ও বদলি বাণিজ্যে বেপরোয়া এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী

প্রতিনিধির নাম / ৩৪৪ Time View
Update : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

৩২১

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ-

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের দপ্তরে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে জেঁকে বসেছেন মাউশির কর্মচারী মো. আরিফুর রহমান। একজন সাধারণ কম্পিউটার অপারেটর হয়েও ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি বাণিজ্য এবং গোপনীয় নথি পাচারের মাধ্যমে তিনি মন্ত্রণালয়ের ভেতরে এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে শিক্ষা সচিবের দপ্তরে প্রেষণে কর্মরত থেকে গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী ‘অনিয়ম সাম্রাজ্য’।
​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আরিফুর রহমান মন্ত্রণালয়ের ভেতরে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’-এর সভাপতি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সাথে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন একই দপ্তরে অবস্থান নিশ্চিত করেন এবং বদলি বাণিজ্যের প্রধান কারিগর হিসেবে আবির্ভূত হন।

​অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সচিবের দপ্তরে আসা অতি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের গোপনীয় তথ্য তিনি আওয়ামী পন্থী শিক্ষক নেটওয়ার্কে পাচার করছেন। মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল নথিপত্র তার হাতের নাগালে থাকায় তিনি নিয়মিতভাবে ভেতরের খবর বাইরে সরবরাহ করেন বলে ভুক্তভোগী ও মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে।

​আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে আসা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো শিক্ষকদের বদলি বাণিজ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষকদের বদলির আবেদন বা ফাইল সচিবের টেবিলে উপস্থাপন করার নাম করে তিনি উপটোকন দাবি করেন। বদলী প্রত্যাশী শিক্ষকদের ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করে ফাইল ছাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। ঘুষের টাকা সরাসরি না নিয়ে বিকাশ বা নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করেন বলে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন “মন্ত্রণালয়ের সাধারণ একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও আরিফুর রহমানের জীবনযাপন অত্যন্ত বিলাসবহুল, যা তার বৈধ আয়ের সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

​নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের নির্দিষ্ট সময় পর পর বদলি করার বিধান থাকলেও আরিফুর রহমান কীভাবে টানা ১৫ বছর একই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে বহাল রয়েছেন, তা নিয়ে শিক্ষক ও মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে যে, প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদ এবং টাকার জোরেই তিনি বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন।
​বর্তমানে বিএনপি সরকার যখন প্রশাসনের সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে, তখন আরিফুরের মতো ‘ফাইল পাচারকারী’ ও ‘সিন্ডিকেট প্রধান’ কীভাবে এখনো সচিবের দপ্তরে খুঁটি গেড়ে বসে আছেন—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সচেতন মহল তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd